জাপা এমপি কাজী ফিরোজ রশিদের বিরুদ্ধে কাপ্তাই হ্রদের জমি দখলের অভিযোগ

চৌধুরী হারুনুর রশীদ:  রাঙ্গামাটি শহরে কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মানের লক্ষ্যে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ এর বিরুদ্ধে স্থাপনা তৈরির অভিযোগ ওঠেছে । শহরের রিজার্ভমুখ সংলগ্ন পুরাতন পুলিশ লাইন এলাকায় মূল সড়কের পাশ থেকে ২০ ফুট দূরত্ব রেখে নির্মানাধীন বহুতল ভবনের সীমানার স্থাপনা তৈরির কাজ শুরু করে কাজী ফিরোজ রশীদের লোকজন। কাপ্তাই হ্রদের অন্তত দেড়শ ফুট জলে ভাসা জমিতে স্থাপন করা হচ্ছে রড সিমেন্টের পিলার দিয়ে দৃশ্যমান করে রেখেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মূল সড়ক থেকে ২০ ফুট দূরত্বে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা। সীমানায় আর সিসি পিলারের মাধ্যমে নির্মিত অন্তত আড়াইশো ফুট লম্বা এই স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের সদ্য গজিয়ে উঠা জলে ভাসা জমির ওপর।
কাপ্তাই জল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মিত হওয়ার পরবর্তীকালীন সময়ে জারিকৃত নিয়ম অনুসারে  হ্রদের পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ১০৯ এমএসএল এর পরে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মান, সকল ধরনের স্থাপনা সম্পূর্ন অবৈধ এবং বেআইনী। এই বিধি-নিষেধকে সম্পূর্ন অগ্রাহ্য করে হ্রদের এক তৃতীয়াংশ জায়গা দখল করে নির্মান করা হচ্ছে কাজী ফিরোজ রশিদের মালিকানাধীন প্লটের স্থাপনা। অবশ্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেয়ারটেকার রফিক ও ঢাকা থেকে আসা ম্যানেজার আব্দুর রহমান বজলু দাবি করেছেন তারা এখানে কোনো প্রকার অবৈধ স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে না। কাজী ফিরোজ রশিদ এর মালিকানাধীন প্লটের পেছনের অংশ উক্ত প্লট মালিকের দাবি করে তারা জানান, আমরা আমাদের জায়গার পেছনের অংশের সুরক্ষায় উক্ত সীমানা প্রাচীর নির্মান করছি।
এই স্থাপনার পার্শ্বোক্ত বাসিন্দা বিধবা রহিমা বেগমের অভিযোগ প্রভাব খাটিয়ে কাজী ফিরোজ রশিদ কর্তৃক নিয়োজিত লোকজন তার কিছু অংশ জমি তাদের দখলে নিয়ে রাতারাতি সীমানা প্রাচীর নির্মান করছেন। আর এই ক্ষেত্রে তারা পৌরসভার পানি নিষ্কাসনের ড্রেন এর জায়গাও তাদের সীমানা প্রাচীরের ভেতরে দখলে নিয়ে গেছে। এতে করে আসন্ন বর্ষার দিনে রাস্তার পানি ড্রেন দিয়ে নেমে রহিমা বেগমের জায়গার উপর দিয়ে পানি নেমে তার জায়গা ভেঙ্গে যাবে। এতে করে মাটি ভেঙ্গে তার বসবাসযোগ্য ঘরটির ব্যাপক ক্ষতি হবে।
আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন জানিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে রহিমা বলেন, আমি অসহায় বিধায় আদালতের নির্দেশনা আসার আগেই দলবল নিয়ে রাতারাতি স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে। বিধবা রহিমা বেগম বলেন, এদের হুমকির কারনে আমার দুইটি ছেলে এলাকা ছাড়া হয়ে আছে। আমি একাই সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, নারী সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনুসহ কোতয়ালী থানার ওসি’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। দীপংকর তালুকদার ও ফিরোজা বেগম চিনুসহ সকলেই আমাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন। আমি মামলা করেছি কিন্তু মাননীয় আদালতের সিদ্ধান্ত আসার আগেই পৌরসভার ড্রেনসহ কাপ্তাই হ্রদের জায়গা দখল করে পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মান করে ফেলেছেন তারা। এই জন্য ব্াধা দিতে গেলে তাকে জাতীয় পার্টির নেতা হারুন, কেয়ারটেকার রফিক ও ম্যানেজার বজলু, জনৈক স্বপন দে’সহ আরো কয়েকজন মিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন রহিমা বেগম।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় সংসদের এমপি কাজী ফিরোজ রশিদ জানিয়েছেন, খরিদাসূত্রে তিনি উক্ত জায়গাটির মালিক। অভিযোগকারি রহিমা বেগমের জায়গাটিও তার উল্লেখ করে তিনি জানান, আমি সেখানে একটি ভবন নির্মান করবো। সেটির পেছনে কাপ্তাই হ্রদের সৌর্ন্দয্য অবলোকন করার লক্ষ্যে আমার ভবনটির পেছনে যাতে কেউ অবৈধভাবে দখল নিয়ে কোনো কিছু নির্মান করতে না পারে সে জন্যে আমার প্লটের পেছনে আমি ঘেরাও করে রাখছি। এতে করে ভবিষ্যতে আমার ভবনের উপর থেকে কাপ্তাই হ্রদের সৌর্ন্দয্য অবলোকন করতে পারবো। তিনি দাবি করেন আমি ঘেরাও দিয়ে লেককে রক্ষা করেছি যাতে করে কেউ অবৈধভাবে দখল করতে নাপারে।
আপনার জায়গাটি কত সালে বাজার ফান্ড থেকে বন্দোবস্তি পেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির এই এমপি জানান, সবকিছুই কাগজপত্রে উল্লেখ আছে।
এদিকে, কাজী ফিরোজ রশিদ প্রদত্ত কাগজ পত্রে দেখা গেছে, তার নামে রাঙ্গামাটি বাজার ফান্ড কর্তৃক প্লট নাম্বার ১২৩ মোতাবেক ৩৪৩০ বর্গফুট জায়গা রেকর্ডীয় আছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এই জায়গায় সীমানা দেওয়ার নাম করে পৌরসভার ড্রেনএর সামনের অংশসহ আরো অন্তত দেড়শো ফুট সরকারি খাস জমি তথা বিএফডিসির অর্ন্তভূক্ত কাপ্তাই হ্রদের সদ্য ভেসে উঠা জমি ঘেরাও করে পাকা সীমানা দেয়াল নির্মান করা হচ্ছে।
অপরদিকে, পৌরসভার ড্রেন দখল করে সীমানা দেয়াল নির্মানকাজের জন্য মোটেও কোনো প্রকার অনুমতি দেওয়া হয়নি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পৌর কাউন্সিলর পুলক দে । তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।
রাঙ্গামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, পৌরসভাধীন পানি নিষ্কাসনের ড্রেনের জায়গা দখল করে কেউ কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মান করলে সেটি অবৈধ। বিষয়টি তিনি অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*