জলকেলিতে ভিজেছে যেন পার্বত্য চট্টগ্রাম: খাগড়াছড়িতে সাংগ্রাইয়ের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

IMG_6076মুহাম্মদ আবুল কাসেম: যেন জলকেলিতে ভিজেছে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রাম। পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমা জনগোষ্ঠির বৈসাবি উৎসবের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ  রিলংপোয়ে। যা অন্য ভাষা-ভাষির লোকের কাছে মৈত্রী বর্ষণ, জলকেলি উৎসব বা ওয়াটার ফেস্টিবল বলে পরিচিত। মারমা জনগোষ্ঠির আকর্ষনীয় এ উৎসব পালনে খাগড়াছড়িতে মঙ্গল শোভাযাত্রা বুধবার সকালে মারমা উন্নয়ন কল্যাণ সংসদ ও মারমা যুব কল্যাণ সংসদের আয়োজনে  বের করা হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স ম মাহাবুল আলম এসজিপি পিএসসি, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী বিপিএম (সেবা), মারমা উন্নয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাবেক পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চাইথোঅং মারমা, প্রেস ক্লাব সভাপতি জীতেন বড়ুয়া, পাজেপ সদস্য মংক্যচিং চৌধুরী, খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ইন্সটিটিউটের গবেষক চিংলামং চৌধুরী ও  সাংগ্রাইং উৎযাপন কমিটির আহ্বায়ক আবুশি মারমা শোভাযাত্রায় সহস্রাধিক মারমা তরুণ, তরুণী, শিশু, কিশোর, কিশোরী বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

IMG_6105মারমাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি পানখাইয়া বটতলী এলাকা হতে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পানখাইয়া পাড়া মারমা উন্নয়ন সংসদ  কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার’র এর সহধর্মিনী লাল ফিতা কেটে আকর্ষনীয় জলকেলি উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন। জলকেলি উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর দিনভর পানি খেলা শুরু হয়। শহরে মারমা তরুন-তরুনীরা জীপ, ট্রাক নিয়ে গানেগানে আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন এবং শহরের সর্বত্র চলাচলরত পাহাড়ী-বাঙালীদের লক্ষ্য করে পানি ছিটান। যেন সাংগ্রাই উৎসব একটি অসম্প্রদায়িক উৎসবে পরিণত  হয়েছে।

IMG_6108এদিকে সাংগ্রাইং উপলক্ষে মারমা উন্নয়ন কল্যাণ সংসদ ও মারমা কল্যাণ সংসদ এর আয়োজনে খাগড়াছড়িতে পাঁচ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মারমাদের ঐতিহ্যবাহী পানি খেলা, ধ, আলারী, রি আকাজা, ঐতিহ্যবাহী বিলুপ্ত সাংস্কৃতিক প্রদর্শণ ও ওপেন কনসার্ট, ধর্মীয় উৎসব পলন, মারমাদের ঐতিহ্যবাহি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনাসভা প্রভৃতি।

ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাইন ও চাকমাদের বিজু তিন সম্প্রদায়ের উৎসবগুলোর আদিক্ষ্যর মিলিত ‘বৈসাবি’ । সবকটি উৎসবের ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে, তেমনি মারমাদের সাংগ্রাই উৎসবের তিনটি দিনের নামও আলাদা। মারমারা প্রথম দিনকে সাংগ্রাই আকনিয়াহ, দ্বিতীয় দিনকে সাংগ্রাই আক্রাইনিহ ও শেষ দিনকে লাছাইংতার বলে। এদিন যুবক-যুবতীরা একে অপরের প্রতি জল ছিটান। পানিকে পবিত্রতার প্রতীক মেনে মারমা তরুণ-তরুণীরা পানি ছিটিয়ে নিজেদের শুদ্ধ করে নেন। পাহাড়ের প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় চলে পানি খেলা বা জলকেলি উৎসব। কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ এই খেলায় মেতে উঠেন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন,  প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পানি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উৎসবের মধ্যে দিয়ে একে অপরের প্রতি পবিত্র জল ছিটিয়ে নিজেকে শুদ্ধ করে নেয়। তিনি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও জলকেলি উৎসবে আগত সকল অতিথিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ধু জলকেলি উৎসব নয় বৈশাখের প্রথম দিনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করেন মারমা জনগোষ্ঠী। এদিনে ঘরে ঘরে পাঁচন, পিঠা এবং নানা মুখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়। সবাই নতুন পোশাক পরিধান করে একে অপরের বাড়ি যান এবং কুশল বিনিময় করেন। বয়স্করা অষ্টশীল পালনের জন্য মন্দিরে যান।  সবাই বুদ্ধ মূর্তিকে চন্দন জলে স্নান করান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*