গুইমারায় নির্বাচন কাল: ইউপিডিএফ’র থাবায় শঙ্কিত ভোটাররা

guirmara upazilaনিজস্ব প্রতিবেদক: রাত পোহালেই (৬মার্চ সোমবার) খাগড়াছড়ি জেলার নবগঠিত গুইমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এজন্য নির্বাচন কমিশন হতে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। জেলার নবগঠিত এই উপজেলার নির্বাচনী ফলাফলের দিকে তাঁকিয়ে আছে সরকার দলের নেতাকর্মী, বিএনপি ও পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো। সবমিলিয়ে স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মতে, এই নির্বাচনে ইমেজ রক্ষায় চিন্তিত আওয়ামীলীগ, জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া ইউপিডিএফ এবং সুযোগ কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। নির্বাচনী প্রচারনা শেষে ভোট গ্রহণের শুরুতে শঙ্কিত রয়েছে সাধারন ভোটাররা।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ১৪টি কেন্দ্রে পৌছে গেছে ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি। গুইমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাউছার হোসেন জানান, নির্বাচনী মাঠে স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে তিন স্তরের বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও ভাম্যমান আদালতের পাশাপাশি ৩ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ২টি বিশেষ টীম, পুলিশবাহিনীসহ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।
নগগঠিত এই উপজেলায় প্রথমবারের মতো চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে মোট ৯জন প্রার্থী ইতোমধ্যে ভোট ভিক্ষা, প্রচারনা শেষ করে বিকাল ৪টার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুণছে। নির্বাচনে লড়ছেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মেমং মার্মা (নৌকা), বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. ইউচুপ (ধানের শীষ) ও পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ সমর্থিত প্রার্থী উশ্যেপ্রু মারমা (আনারস)। এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন  আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মো. নুরুন্নবী  (নৌকা) স্বতন্ত্র প্রার্থী থোয়াইঅংগ্য চৌধুরী (টিউবওয়েল), বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী পূণ্য কান্তি ত্রিপুরা (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক মিল্টন চাকমা (চশমা)। অপরদিকে, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন নৌকা প্রতীকে ঝর্ণা ত্রিপুরা ও ধানের শীষ প্রতীকে হ্লাউচিং মারমা।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, দুই রাজনৈতিক দলের বিপরীতে এ উপজেলায় জয় ছিনিতে নিতে মরিয়া আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ। স্থানীয় রাজনীতিবিদদের বিশ্লেষণ- নবসৃষ্ট এই উপজেলায় সরকার দল ইমেজ রক্ষায় চিন্তিত। বিগত ২০১৪ সালে খাগড়াছড়ি জেলার অপর ৮টি উপজেলা নিবার্চনে মানিকছড়ি উপজেলায় ১টি মাত্র জয় পেয়েছিল আওয়ামীলীগ। বিএনপি পেয়েছিল ২টি জয়। বাকী ৬টি উপজেলায় ইউপিডিএফ ও জেএসএস জয় ছিনিয়ে নেয়। সবমিলিয়ে খাগড়াছড়ি জেলার সবকটি রাজনৈতিক দলের দৃষ্টি এখন গুইমারার দিকে। গুইমারায় তাদের এই পরিকল্পনা সফল হলে ইমেজ সংকটে পড়বে আওয়ামীলীগ। অপরদিকে, আওয়ামীলীগ ও আঞ্চলিক সংগঠনের দুই প্রার্থী মারমা সম্প্রদায়ভূক্ত হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জয় ছিনিতে নিতে সুযোগ খোঁজছে বিএনপি। তারাও আশাবাদী এ জয়ে বিএনপি এ জেলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ের হ্যাট্রিক ছিনিয়ে নিবে।
এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেমং মারমা বলেন, দুর্গম এলাকাগুলোয় আঞ্চলিক দলের পক্ষ থেকে ভোটারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।
বিএনপির প্রার্থী মো. ইউসুফ বলেন, নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবে এমন আশা সাধারণ মানুষের। বহিরাগতরা যাতে এলাকায় এসে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী উশ্যেপ্রু মারমা বলেন, আগের নির্বাচনগুলোয় ভোটের আগের দিন থেকে এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা দেখা দেয়। এটি যাতে না হয়।
গুইমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা প্রাশাসক এটিএম কাউছার হোসেন বলেন, এ নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করতে ১৪টি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। আশা করি, বিগত নির্বাচনগুলোর ন্যায় গুইমারা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*