গুইমারায় অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত পুরো গ্রামবাসী! হাসপাতালে ছুটে গেলেন জেলা আওয়ামীলীগ টীম

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি জেলার নবসৃষ্ট গুইমারা উপজেলার দুর্গম তৈমাতাই নামক গ্রামে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। সোমবার রাতে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ৩০জন ভর্তি হলেও রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দুর্গমতার কারনে অনেক রোগী এলাকায় চিকিৎসারত। খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়নময় ত্রিপুরা জানান, এটি গণমনস্তাত্ত্বিক রোগ। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুস সালাম জানান, দুর্গত এলাকায় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চার সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে গেছে।

এদিকে, মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও আওয়ামীলীগ নেতা মংসুইপ্রু চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা আওয়ামীলীগের একটি টীম হাসপাতালে ছুটে যান। টীমটি রোগীদের অবস্থা পর্যবেক্ষন করেন এবং চিকিৎসার জন্য ৩০হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাজেপ সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, মংক্যচিং চৌধুরী, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাংবাদিক নুরুল আজম, জেলা যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান হেলাল, যুবলীগ নেতা কাউন্সিলর মাসুদ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা চন্দন দে সহ ২০-২৫জনের অধিক নেতাকর্মী। এছাড়াও জাবারাং এনজিও প্রধান মথুরা বিকাশ ত্রিপুরাসহ জেলার একাধিক সমাজকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে সিট না থাকায় রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে ফ্লোরে। হঠাৎ রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেবা দিতে গিয়ে  হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। হাসপাতালে রোগীদের সাথে আগত ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা জানান, খাগড়াছড়ির দেবতা পুকুরের আশ-পাশ দুর্গম তৈমাতাই  গ্রামে  এ অজ্ঞাত রোগটি দেখা দেয়। প্রথমে রোগী অস্বাভাবিক আচারণ করে অনেকটা হিংস্র আচারণ করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা হচ্ছে, কৃঞ বালা ত্রিপুরা(২২), কবিতা ত্রিপুরা(৩০), বহি বালা ত্রিপুরা(১৭), দীকা ত্রিপুরা(১৬), মায়া বালা ত্রিপুরা(২৬), খাজ বালা ত্রিপুরা(১৮), বানু বিথি ত্রিপুরা(৩০), দিনু ত্রিপুরা(২১), কলইমা ত্রিপুরা(১৭), সাগরিকা ত্রিপুরা(১০), টিপায়ন ত্রিপুরা(১১), মহন ত্রিপুরা(১৬), সনদি রাম ত্রিপুরা(৩৫), কলোইসা ত্রিপুরা(১৬) ও বহেন ত্রিপুরা(১৫)।  স্থানীয় দয়া কুমার ত্রিপুরা জানান, সোমবার সকাল থেকে ঐ গ্রামের মানুষগুলো হঠাৎ করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না-কাটি ও পাগলামি শুরু করে এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। বিকাল পর্যন্ত অন্তত ৭৫ জন নারী পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

খাগড়াছড়ি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সকাল পর্যন্ত খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ৩০জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তবে এলাকাটি দুর্গম হওয়ার কারণে অনেক রোগীকে আনা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালে আসা রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*