খাগড়াছড়িতে ‘য়ামুক’ ৪র্থ গরয়া নৃত্য উৎসব: পাড়ায় পাড়ায় গরয়া

IMG_6019নিজস্ব প্রতিবেদক: পাহাড়ের প্রাণের উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে খাগড়াছড়ির ত্রিপুরা পাড়াগুলোতে গরয়া নৃত্য উৎসব চলছে। বৈসাবির ১ম দিনে ১২এপ্রিল (মঙ্গলবার)বিকালে জেলা শহরের খাগড়াপুর (উত্তর) মাঠে ৪র্থ গরয়া নৃত্য উৎসব ২০১৬এর উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান। স্থানীয় “য়ামুক” (একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন) সংগঠনের আয়োজনে গরয়া নৃত্য উৎসবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য শিক্ষানুরাগী খগেশ্বর ত্রিপুরা ও রামকৃষ্ণ ত্রিপুরা।

‘য়ামুক’ সংগঠনের সভাপতি দুলালী ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর শাহেদা আকতার, পূর্ণমনি কার্বারী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ত্রিপুরা স্টুডেন্টস ফোরামের সাবেক সভাপতি জয় ত্রিপুরা।

IMG_6036বৈসাবির প্রথম আদিক্ষ্যর ‌‘বৈ’ দিয়ে উৎসবের নাম বৈসু। ত্রিপুরা জনগোষ্ঠির বৈসু উৎসব ও গরয়া নৃত্য যেন একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বৈসাবির প্রথম দিন ত্রিপুরা জনগোষ্ঠি গরয়া দলের সদস্যরা গরয়া দেবতাকে পুজো দিয়ে খুব ভোরে পাড়ায় পাড়ায় নৃত্য পরিবেশনের জন্য বের হয়। গরয়া নৃত্যে সদস্য সংখ্যা কমপক্ষে ২২জন থাকে এবং এই নৃত্যের মুদ্রা ২২টি। গরয়া নৃত্যে ২২টি মুদ্রায় মানব জীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সমষ্ট জাগতিক ও পরলৌকিক দেখানো হয়। গরয়া নৃত্যে দোলের তেহাই বোলে এক একটি মুদ্রা নির্দেশনা দিয়ে থাকে এবং প্রতিটি মুদ্রা ৩বার করে প্রদর্শন করা হয়।

ত্রিপুরাদের বিশ্বাস, পরম করুনাময় ভগবানের আরেক নাম গরয়া। তাই গরয়া দেবতাকে পূজা করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা, কীট পতঙ্গের উপদ্রব কমে ও মহামারী হয় না। এ চেতনায় ত্রিপুরারা বছর শেষান্তে বর্ষের সুখ-দু:খ, ব্যাথা বেদনাকে পিছনে ফেলে নতুন বছরে নতুন উদ্যমে কর্মে ঝাপিয়ে পরার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে গরয়া পূজা ও গরয়া নৃত্য পরিবেশন করে থাকে।

প্রসংগত: নাটক হউক সামাজিক আন্দোলনের মূল হাতিয়ার এ শ্লোগানে ১৯৯৩ সালের ২২ নভেম্বর “য়ামুক নাট্য গোষ্ঠি” প্রতিষ্ঠিত হয়। যা পরবর্তীতে পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠির বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতির বিকাশ, সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসায় এর নাম রাখা হয় “য়ামুক” (একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*