খাগড়াছড়িতে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

মুহাম্মদ আবুল কাসেম, খাগড়াছড়ি: ‘আমরা করবো জয়…’ গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও পাহাড়ের আঞ্চলিক নারী সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে জেলা শহরের স্বনির্ভর মাঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, সাজেক নারী সমাজ ও ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে নারী সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে স্বনির্ভর মাঠ থেকে একটি বিশাল র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নারানহিয়া, উপজেলা, কলেজ গেট হয়ে চেঙ্গী স্কোয়ার ঘুরে আবার স্বনির্ভর মাঠে এসে শেষ হয়। এর আগে আলুটিলায় ট্রাক চাপায় নিহতদের স্মরণে আগামী ১২ মার্চ খাগড়াছড়ির য়ংড বৌদ্ধ বিহারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রদীপ প্রজ্জ্বালন ও আগামী ১৫ মার্চ ইতি চাকমা’র হত্যাকারীকে গ্রেফতারের দাবিতে ডিসি অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘট ও  স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরূপা চাকমা ও সঞ্চালনা করেন দপ্তর সম্পাদক মিনাকি চাকমা। সমাবেশ শুরুতে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক জুঁই চাকমা।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি সোনালী চাকমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থুইক্যচিং মারমা, বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অনিল চাকমা, সাজেক নারী সমাজের সভাপতি নিরুপা চাকমা ও ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কাজলী ত্রিপুরা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সদস্য মন্টি চাকমা।
৫ সংগঠনের ঘোষণাপত্রে দাবি সমূহ হচ্ছে- ধরপাকড় তল্লাশি বন্ধ করা; ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা তুলে নেয়া; নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ বন্দোবস্ত; কৃষি-শিল্প-শিক্ষা লোন প্রদান করা; ক্ষুদ্র ঋণের নামে মহাজনী প্রথা নিষিদ্ধ করে ঋণ উত্তোলন বন্ধ করা; স্কুল-কলেজে ছাত্রীদের সুবিধার্থে কমনরুম-টয়লেট বন্দোবস্তকরণ করা; মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান, ইউপি মহিলা মেম্বারদের প্রতিনিধিত্ব ও ক্ষমতা নিশ্চিতকরণ; চাকুরীজীবী নারীদের বেতন, বোনাস, বৈসাবি ভাতা নিশ্চিতকরণ, গার্মেন্টে কর্মরত নারীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বৈসাবি উৎসবে যোগদান নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি থেকে গাড়ি বন্দোবস্ত করা; এবং বিভিন্ন বিচার ও সালিশে নারী প্রতিনিধি রাখা বাধ্যতামূলক করা।
সমাবেশে বক্তারা সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে কলেজ ছাত্রী ইতি চাকমা হত্যার ঘটনাসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম সংঘটিত নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা নারী নির্যাতন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*