খাগড়াছড়িতে শ্রমিকলীগ নেতার উপর হামলার ঘটনায় ফের উত্তাল শহর, ভাংচুর, নিষেধাজ্ঞার মাইকিং

Hamlaমুহাম্মদ আবুল কাসেম: খাগড়াছড়িতে পৌরসভা নির্বাচনী পরবর্তী সহিংসতায় জেলা শ্রমিকলীগের আহবায়ক জানু সিকদারের (নৌকা প্রতিকের সমর্থক)উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ (রোববার) বিকালে জেলা আ’লীগ কার্যালয়ের সন্নিকটে  এ ঘটনা  ঘটে। আহত অবস্থায় জানু সিকদারকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাতে সরকার দলীয় পক্ষ ও পৌর মেয়র রফিক গ্রুপ পাল্টাপাল্টি ভাবে শহরে লাঠিসোটা নিয়ে নেমে পড়লে জেলা শহরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।দু’পক্ষের মারমুখী অবস্থানে মুহুর্তেই বন্ধ হয়ে পড়ে বাজার এলাকার দোকানপাট। বন্ধ থাকে দেড় ঘন্টাখানেক সকল প্রকার যান চলাচল। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিষ্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রইছ উদ্দিন, অফিসার ইনচার্জ সামসুদ্দিন ভূইয়া শতাধিক পুলিশ ফোর্স নিয়ে মাঠে নেমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও এখনো দু-গ্রুপের মধ্যে ক্ষোভ উত্তেজনা বিরাজ করছে। জনমনে নেমে এসেছে অজানা আতংক।

এদিকে, এলাকার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরে মাইকিং করা হয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত জেলা শহরে সকল প্রকার মিছিল মিটিং, সমাবেশ ও কর্মসূচির নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে লাঠিসোটা নিয়ে আদালত সড়ক হতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে সরকার দলের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শাপলা চত্বর ফেরার পথে ভাংচুর চালায় ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন ঠিকাদার রিপ এন্টারপ্রাইজ নামক একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে বিক্ষুব্ধরা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র অফিস ফটকেও লাঠিসোটা দিয়ে আঘাত করে। পরে পুলিশের তৎপরতায় বিক্ষুব্ধরা আদালত সড়কের দিকে চলে গেলে লাঠিসোটা নিয়ে মাঠের দখল নেয় মেয়র গ্রুপের অনুসারীরা। এসময় শাপলা চত্বরে মেয়র রফিকুল আলম, তার ছোট ভাই ও আওয়ামীলীগ নেতা দিদারুল আলম সহ বিক্ষুব্ধরা মাঠে নামলে পুলিশ আটকে দেয় এ গ্রুপের গতিরোধ। এসময় পৌর মেয়র রফিকুল আলম অভিযোগ করেন, এমপি গ্রুপের অনুসারীরা রোববার সাড়ে ৭টার দিকে পৌরসভায় প্রবেশ করে ফুলের টব, দ্বিতীয় তলার অভ্যর্থনার সোফা সেট ভাংচুর চালায় হামলাকারীরা। তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন বলে প্রস্তুতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ভাংচুরকৃত স্থান সমূহ পরিদর্শন করেছেন ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাগণ।

এদিকে, শ্রমিকলীগ নেতা জানু সিকদারের হামলার ঘটনায় সরকার দলের নেতাকর্মীরা মেয়র রফিকুল আলম ও তার গ্রুপের অনুসারীদের দায়ী করেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌর মেয়র রফিকুল আলম।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত যে দলের হোক না কেন কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এর আগে, বিকালে খবর পেয়ে আহত জানু সিকদারকে হাসপাতালে দেখতে যান খাগড়াছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। অপরদিকে, এঘটনার প্রেক্ষিতে রাতেই পৌর মেয়র রফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পৌরসভায় ভাংচুরে ঘটনায় ও  (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টায় সম্মিলিত নাগরিক কমিটি, খাগড়াছড়ি পৌরসভার কমর্চারী সমিতি ও খাগড়াছড়ি সন্ত্রাস ও চাদাবাজ নির্মূল কমিটির যৌথ আয়োজনে পৌরসভা মিলনায়তনে সংবাদ সম্মলনের মধ্যে দিয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*