খাগড়াছড়িতে শিল্পকলার উদ্যোগে পাহাড়ে বসন্ত উৎসব পালন

Basantaনিজস্ব প্রতিবেদক: শীতের খরতা কেটে পাহাড়ে আনন্দ আয়োজনে নাচে-গানে উদযাপিত হয়েছে বসন্ত বরণ উৎসব । বসন্তের রংতুলিতে সেজেছে ছোট্ট সোনামনিসহ নানা বয়সী নর-নারী। আর সেই বসন্তের উচ্ছাসে আরো বেশি উচ্ছাসিত করে তোলেছে খাগড়াছড়ি জেলা শিল্পকলা একাডেমির আনুষ্ঠানিকতা। আজ সোমবার বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে হাইস্কুল মাঠে নাচে-গানে আনন্দ আয়োজনে মেতে ওঠেছে বাসন্তরী। এর আগে আলোচনা সভায় বলা হয় বসন্তের গল্প, আবেগ অনুভূতি। এই বর্ণিল আয়োজনে বাসন্তী রঙের সজ্জিতরা বসন্তকে স্বাগত জানিয়েছে পারস্পরিক স্নিগ্ধতার ছোঁয়ায়।
বসন্তের এমন আয়োজনে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্যতম সদস্য ও শিক্ষানুরাগি খগেশ্বর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি সদর জোনের নবাগত জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল জিএম সোহাগ। তিনি বলেন, বসন্তের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বসন্তের উচ্ছাসে পাহাড়ে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠি তথা পাহাড়ী-বাঙালির মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন আরো বেশি অটুট হবে।
20170213_164711সভাপতির বক্তব্যে শিক্ষানুরাগি খগেশ্বর ত্রিপুরা বলেন, বসন্তের ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, তবুও আজ বসন্ত। বসন্তের ফুল  ফুটলে যেভাবে উচ্ছাস ছড়িয়ে দেয় সেইভাবে যদি প্রত্যেক মানুষের মনের ফুল ফুটে তাহলে- মানুষের শারীরিক, মানসিক উচ্ছাস ছড়িয়ে পড়বে। আর সেই উচ্ছাস দিয়ে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পাহাড়ে পাহাড়ী-বাঙালির সম্প্রীতি আরো বেশি সুদৃঢ় হবে। সুদৃঢ় সম্প্রীতির মাধ্যমে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার স্বপ্নের ভিশন ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত মধ্যম দেশে পরিনত হবে। এসময় তিনি সকলকে ভাতৃত্ববন্ধন অটুট রেখে মনের মধ্যে সেই বসন্তের ছোয়াকে পরিস্ফূটিত করার আহবান জানান।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. শানে আলম, বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রাপ্ত সাহিত্যিক গবেষক প্রভাংশ ত্রিপুরা, দৈনিক অরন্যবার্তার সম্পাদক টিভি ব্যাক্তিত্ব চৌধুরী আতাউর রহমান রানা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারন সম্পাদক জীতেন বড়–য়া। পরে বসন্তকে স্বাগত জানিয়ে শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীদের পরিবেশনায় পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বর্ণিল বসন্তের সাজে রঙে রাঙিয়ে একটি বিকেল পার করেছে বাসন্তি রঙের দর্শক শ্রোতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*