খাগড়াছড়িতে যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণে ক্রীড়া সংগঠকদের ভুমিকা নিয়ে এডভোকেসী সভা

khagrachari natab Photo 19.05.2016খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: যক্ষ্মা রোগের লক্ষন ও এর চিকিৎসা সম্পর্কে ক্রীড়া সংগঠকরা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। ক্রীড়া সংগঠকরা  গ্রাম গঞ্জে যক্ষ্মারোগ রোগী দেখলে তাদের এবং তাদের অভিভাবকদের সরকারী খরচে রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা নিতে উদ্বুদ্ধ  করতে পারেন। এভাবে যার যার অবস্থান থেকে ভুমিকা রাখলে মানুষের মধ্যে দ্রুত  সচেতনতা ছড়িয়ে পড়বে এবং যক্ষ্ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি (নাটাব) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার উদ্যোগে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত “যক্ষ্ম রোগ নিয়ন্ত্রণে ক্রীড়া সংগঠকদের ভূমিকা শীর্ষক” এক এডভোকেসী সভায় আলোচকরা এসব কথা বলেন।
নাটাব খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক জীতেন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এডভোকেসী সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চাকমা। প্রধান আলোচক ছিলেন মেডিকেল অফিসার ডা: টুটুল চাকমা। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক এবং জেলা ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি  অনুপ কুমার চাকমা, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের মুহাম্মদ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভার প্রধান আলোচক মেডিকেল অফিসার ডা: টুটুল চাকমা বলেন, ক্রীড়া সংগঠক এবং খেলোয়াড়রা আমাদের সমাজের একটি বৃহৎ অংশ। যক্ষ্মা ছোঁয়াচে হলেও সচেতনতার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ক্রীড়া সংগঠক এবং খেলোয়াড়দের ভূমিকা অনস্বীকার্য্য।
আলোচনায় তিনি যক্ষ্মারোগ বিষয়ে আলোকপাত করেন যে, সাধারণত বদ্ধ, স্যাঁত স্যাঁতে, ঘনবসতিপূর্ণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝেই যক্ষ্মা বা টিবি রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। যক্ষ্মা বা টিবির জীবাণুর সংক্রামণ বৈশিষ্ট্যের কারণেই এমনটি হয়। এ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতার মাত্রা কম থাকায় এ রোগের বিভিন্ন লক্ষণ বা উপসর্গ ধাপকে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর সিংহভাগেরই তেমন ভালো কোনো ধারণা নেই। মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবার কিউলোসিস নামের এক ধরনের জীবাণু থেকে এ রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত রোগীর কফ থেকে এ রোগের জীবাণু একজনের দেহ থেকে অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করে। এ রোগের কোন নির্দিষ্ট সুপ্ত কাল নেই। যেসব রোগী ৩ সপ্তাহের বেশি জ্বরে ভোগে তাদের ৩৩ শতাংশ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ায় সম্ভাবনা থাকে। যাদের কাছ থেকে যক্ষ্মা রোগ ছড়াতে পারে তাদের বলা হয় ‘ওপেন কেস’। এদের কফ থেকে সব সময় জীবাণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এদের সাথে চলাফেরা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। রোগীর হাঁচি কাশির সাথে সাধারণত রোগ জীবাণু বাইরে আসে। রোগীর অন্য কোনো জিনিস যেমন থালা বাটি গ্লাাস ও পরিধেয় বস্ত্রাদির মধ্যে দিয়ে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বুকের এক্সরে, রক্তের ইএসআর, কফ পরীক্ষা এবং টিউবার কিউলিন বা মনটের টেস্ট করে যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করা হয়। বিসিজি ভ্যাকসিন ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে যক্ষ্মা প্রতিরোধ করতে পারে। তিনি ক্রীড়া সংগঠকদের যক্ষারোগ সনাক্ত করতে  ভুমিকা রাখার আহবান জানান। সভায় জেলার ৩০জন ক্রীড়া সংগঠক এবং খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*