খাগড়াছড়িতে মাঠ চসে বেড়াচ্ছেন ২৯৪জন নারী প্রার্থী

Nariমুহাম্মদ আবুল কাসেম: পুরুষদের পাশাপাশি সমানতালে সক্রিয় ভাবে নির্বাচনী মাঠ চসে বেড়াচ্ছেন খাগড়াছড়ি জেলার ৩৩টি ইউনিয়নের ২৯৪জন নারী প্রার্থী। সাধারন ওয়ার্ডে একটি মাত্র ওয়ার্ডে পুরুষরা নির্বাচনী প্রচারনা, ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে দৌড়ঝাপ চালালেও সংরক্ষিত ৩টি ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারনা  শেষে ভোট গ্রহণ ও ফলাফলর অপেক্ষায় পাহাড়ের নারীরা। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী ব্যায় খরচও একজন সাধারন ওয়ার্ড মেম্বার হতেও তিনগুন ব্যায় খরচ পোহাতে হচ্ছে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের এতজন নারী প্রার্থীদের।

স্থানীয় নারী নেত্রীদের অভিমত, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নারী হয়ে ৩টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রচারনা ও পুরুষের চেয়ে তিন গুণ ব্যায় খরচ পোহালেও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত নারীদের প্রকল্প গ্রহণ ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে তেমন আশানুরূপ সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না। ফলে এসব প্রার্থীরা ফুলঝুড়ি দিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার পরও  নারী প্রার্থীদের উন্নয়ন করার স্বপ্ন, স্বপ্নই থেকে যায়।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, ২৩ এপ্রিল খাগড়াছড়ি জেলার ৮টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও সীমানা বিরোধের কারনে উচ্চ আদালতে রীট হওয়ার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশমতে মানিকছড়ি যোগ্যাছোলা ইউনিয়নে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়ার আগ মুহুর্তে ৩৩টি ইউনিয়নে ৯৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২৯৪জন। নির্বাচনের আগ মুহুর্তে ৩২টি ইউনিয়নের হিসাবানুযায়ী ৯জন কমে সেই সংখ্যা দাড়িয়েছে ২৮৩জনে।

তথ্যমতে, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৪৩জন নারী প্রার্থী ভোট যুদ্ধে রয়েছেন। তন্মধ্যে ১নং খাগড়াছড়ি সদরে-০৭জন, ২নং কমলছড়ি ইউপিতে-১১জন, ৩নং গোলাবাড়ী ইউপিতে-০৮জন, ৪নং পেরাছড়া ইউপিতে-০৯জন ও ৫নং ভাইবোনছড়া ইউপিতে লড়ছেন-০৮ নারী প্রার্থী।

পানছড়ি উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ভোট যুদ্ধে রয়েছেন-৫০জন নারী প্রার্থী। তন্মধ্যে-১নং লোগাং ইউপিতে-১০জন, ২নং চেংগী ইউপিতে-১১জন, ৩নং পানছড়ি ইউপিতে-১২জন, ৪নং লতিবান ইউপিতে-৬জন ও ৫নং উল্টাছড়ি ইউপিতে-১১জন নারী প্রার্থী।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে ২১জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। তন্মধ্যে ১নম্বর লক্ষীছড়ি ইউপিতে-১১জন, ২নম্বর দুল্যাতলী ইউপিতে ০৫জন ও ৩নম্বর বর্ম্মাছড়ি ইউপিতে ৬জন নারী প্রার্থী লড়ছেন।

মহালছড়ি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে মোট ৪০জন নারী প্রার্থী ভোট যুদ্ধে রয়েছেন। তন্মধ্যে-মহালছড়ি সদর ইউনিয়নে-১২জন, মুবাছড়ি ইউপিতে ০৬জন, ক্যায়াংঘাট ইউপিতে-১০জন ও মাইসছড়ি ইউতে ১১জন নারী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ চসে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে, মানিকছড়ি উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারনায় সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন-৩৪জন। তবে যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় অপর ৩টি ইউনিয়নে ০৯জন নারী প্রার্থী নির্বাচনী ভোট যুদ্ধ চালিয়ে আসলেও তারা আপাতত অপেক্ষার প্রহর গুণছেণ । তন্মধ্যে মানিকছড়ি সদর ইউপিতে-০৯জন, তিনটহরী ইউপিতে-৭জন ও বাটনাতলী ইউনিয়নে১০জন।

অপরদিকে, রামগড় উপজেলার ২টি ইউনিয়নে সংরক্ষিত ওয়ার্ডে লড়ছেন ১৯জন। তন্মধ্যে রামগড় সদর ইউপিতে-০৯জন ও পাতাছড়া ইউনিয়নে ১০জন নারী প্রার্থী ভোট যুদ্ধে রয়েছেন। দিঘীনালা উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে-২৯জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। তন্মধ্যে মেরুং ইউপিতে-১২জন, বোয়ালখালী ইউপিতে-০৮জন ও কবাখালী ইউপিতে-৯জন নারী প্রার্থী সংরক্ষিত ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।মাটিরাঙা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন-৬০জন নারী প্রার্থী। তন্মধ্যে আমতলি ইউপিতে-০৮জন, বেলছড়ি ইউপিতে-৯জন, বড়নাল ইউপিতে-৯জন, গোমতি ইউপিতে-৯জন, মাটিরাঙা সদর ইউপিতে-৮জন, তাইন্দং ইউপিতে-৮জন ও তবলছড়ি ইউপিতে-৯জন নারী প্রার্থী সংরক্ষিত ওয়ার্ড সমূহ চসে বেড়াচ্ছেন।

বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত: জেলা নির্বাচন অফিসার নুরুল আলম জানান, সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় ইতোমধ্যে নির্বাচনে হয়েছেন-০৪জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*