খাগড়াছড়িতে চলছে আওয়ামী দুর্গে তালা-চাবির রাজনীতি: উড়ছে কালো পতাকা

Kalobaj daronনিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ির আওয়ামী রাজনীতিতে এবার নতুনমাত্রায় নতুন সনে যোগ হয়েছে তালাচাবির রাজনীতি। ৩০ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর পরই জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে তালা ঝুলানো, তালা খোলা, অফিসে পুলিশ মোতায়েন, ফের তালা ঝুলানো, দরজার সামনে দলীয় নেতাকর্মীদের অবস্থান, বন্ধ অফিসের সামনে মিলাদ মাহফিল, একাংশের উপস্থিতি টের পেলে অন্য অংশের নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাপ এসব নিয়ে রীতিমত চলছে শক্তির প্রদর্শনী, চলছে দলীয় অফিস দখলে রাজনীতি।

স্থানীয়দের মতে, ২০১৬এর জানুয়ারির ইতি টানলেও অর্ন্তকোন্দলের তীব্রতায় তুষের আগুনে যেন দিন দিন উত্তাপ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে, দলীয় অফিসটি খাগড়াছড়ি কলেজ সড়কস্থ হওয়ায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকার যানবাহনের ষ্টেশন (হিলকিং, শান্তি, ঈগল, ইউনিক, এসআলম প্রমূখ) হওয়ায় এ চিত্রের খবর ছড়িয়ে পড়ছে মুহুর্তে অন্যান্য সমতল এলাকায়। ফলে সমালোচনায় ভরপুরতায় ক্ষুন্ন হচ্ছে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সাজানো বাগানের দীর্ঘ বছরের ভাবমূর্তি। কোন্দলের তীব্রতায় এবার যোগ হয়েছে জেলা বিএনপি’র সভাপতি সাবেক সাংসদ ওয়াদুদ ভূইযার নামও। ব্যানার ফেস্টুনে ঝুলানো হয়েছে একাংশের দৃষ্টিতে দুষমনের তালিকার ছবি। আজ (বুধবার)সকালে দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার প্রতিবাদে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের নেতৃত্বে কালো ব্যাচ ধারণ ও কার্যালয়ের সামনে কালো পতাকা উত্তোলণ করেছে আওয়ামী একাংশের নেতাকর্মীরা। এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম দলীয় কার্যালয়ে তালা লাগানোর ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে দায়ী করে বলেন, ‘এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বিএনপি নেতা ওয়াদুদ ভূইয়াকে মদদ দিচ্ছে। তিনি ওয়াদুদ ভূইয়ার সাথে আঁতাত করে আওয়ামী লীগের দীর্ঘবছরের ঐক্য বিনষ্ট করার পায়তারা করছে। পৌর নির্বাচনের ইসুকে কেন্দ্র করে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা আওয়ামী লীগকে সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে উঠেপড়ে লেগেছে।’ এছাড়া অবিলম্বে দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়ার দাবি জানান এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন জেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক জাহেদুল আলম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও জেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক রইছ উদ্দিন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কামাল পাটোয়ারী, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*