খাগড়াছড়িতে আ’লীগ দু’গ্রুপের উত্তেজনা, প্রশাসনের ভূমিকায় শান্ত

A htoনিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সৃষ্ট অর্ন্তকোন্দল বহি:প্রকাশে দলীয় অফিস দখল নিয়ে ফের খাগড়াছড়িতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় অফিসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন সহ জেলা প্রশাসনের ভুমিকায় সৃষ্ট উত্তেজনা অবসান ঘটলেও জনমনে আতংক কাটেনি।
আজ শনিবার বিকালে দলীয় কার্যালয় দখল ইস্যুতে শক্তি পরীক্ষায় নামে দু’টি গ্রুপ। সকাল থেকে তালা ঝুলানো বন্ধ থাকা অফিসের দখল নেয় জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক জাহেদুল আলমের নামে সৃষ্ট জাহেদ গ্রুপ।
দলীয় অফিসে যারা সকাল থেকে অবস্থানরত তারা কেন্দ্রীয় ভাবে বহিস্কৃত এই ইস্যুতে বিকালে স্থানীয় সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নামে সৃষ্ট গ্রুপ ‘এমপি গ্রুপ’ সমর্থক নেতাকর্মীরা কদমতলী এলাকা হতে দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার পথে শাপলাচত্বরে পৌঁছলে পুলিশ বাঁধা দেয়। আ’লীগের দু’পক্ষের দ্বিমুখী অবস্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। মুহুর্তেই শহওে বন্ধ হয়ে যায় সকল প্রকার যানচলাচল। পুলিশ ভাঙ্গীব্রীজ ও খাগড়াছড়ি বাজার ব্রিজ  এলাকায় থেমে দেয় সকল প্রকার যান চলাচল। এসময় এমপি গ্রুপের অংশীয় দলীয় নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে যেতে পুলিশী বাঁধার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তবে অনড় ভূমিকায় ছিল পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। কোন পক্ষকেই ছাড় দেয়নি পুলিশ ও জেলা প্রশাসন।
এসময় ঘটনাস্থলেই পৌছে পুলিশ প্রশাসনের সাথে কথা বলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি রণবিক্রম ত্রিপুরা, সিনিয়র নেতা নুরনবী চৌধুরী, পাজেপ সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরা, পাজেপ সদস্য মংশেপ্রু চৌধুরী অপু, খোকনেশ্বর ত্রিপুরা, জুয়েল চাকমা, শানে আলম, যুবলীগ নেতা কে.এম ইসমাইল হোসেন, যতন কুমার ত্রিপুরা, মেহেদী হাসান হেলাল, ছাত্রলীগ নেতা টিকো চাকমা, পৌর আওয়ামীগ নেতা মো. জাবেদ প্রমূখ।
তাৎক্ষনিক ভাবে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, আগামীকাল ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বিকালে প্রস্তুতি সভা করতে খাগড়াছড়ি জেলার সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের নিয়ে আমরা দলীয় অফিসমুখে রওনা দিলে তা অনাকাঙ্খিত কারনে সম্ভব হয়নি। তিনি সকল নেতাকর্মীরদের দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের আহবান জানান।
জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এটিএম কাউছার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী পুলিশ সুপার রইস উদ্দিন, পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআই-১ আবদুস সামাদ মোড়ল, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামসুদ্দীন ভুইয়া সহ প্রমূখ।
এদিকে, পুলিশের বাঁধার মুখে এমপি গ্রুপের সমর্থকরা ব্রিজ সম্মুখে বাঁধার মুখে থাকাবস্থায় খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান ও পুলি সুপার মো. মজিদ আলী বিপিএম  (সেবা) আ’লীগ কার্যালয়ে পৌছে তাৎক্ষনিক জেলা আ’লীগ কার্যালয়সহ ৫০গজ সীমানায় প্রশাসনের পক্ষ হতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ১৪৪ বিধানমতে দলীয় অফিসে অবস্থানরত সকলকে এলাকা ত্যাগ করার নির্দেশ প্রদান করলে বন্ধ হয়ে যায় দলীয় অফিস। অপরদিকে, একই সময়ে এমপি গ্রুপকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দেন ১৪৪ জারি করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত ১৪৪ বলবৎ থাকবে। এখবরে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে মিছিলে মিছিলে ফিরে যান এমপি সমর্থকরা। শান্ত হয়ে ওঠে উত্তেজিত পরিবেশ।

অপরদিকে, প্রশাসনের জারীকরা ১৪৪ নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নে প্রশাসনের পক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি জানান, ভুল বুঝাবুঝিতে ১৪৪ জারীর বিষয়টি ওঠে আসে। তবে এখনোও পর্যন্ত  অফিস আদেশে কোন ১৪৪জারী করা হয়নি। তিনি জানান, আপাতত: কোন পক্ষকে দলীয় কার্যালয়ে বসতে দেয়া হচ্ছে না। তবে দলীয় কার্যালয় পুলিশের দখলে নয়, দলীয় কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীরাই বসবেন তবে আলোচনা সাপেক্ষে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসন সাপেক্ষে। তবে ভিন্নতায় বক্তব্য প্রদান করেছেন ১৪৪ এর ঘোষক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এটিএম কাউছার হোসেন। তিনি গণমাধ্যমে জানান, উত্তেজিত পরিবেশকে শান্ত করতেই ঘটনাস্থলে এ ঘোষনা দেয়া হয়।
এদিকে, এ বিষয়ে জেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রণবিক্রম ত্রিপুরা পার্বত্যবাণীকে জানান, আমরা আশাবাদী দলীয় কার্যালয়ে প্রশাসন বহিস্কৃতদের বসার সুযোগ না দিয়ে আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিকসহ দলীয় নেতাকর্মী কার্যালয়ে বসে  কার্যক্রম গতিশীল রাখার পরিবেশ সৃষ্টি করতে ভূমিকা রাখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*