কবর থেকে ফিরে এলো রামগড়ের ৩ ব্যবসায়ী

news-picনিজস্ব প্রতিবেদক: তাক করে রাখা হয়েছে অস্ত্র, তৈরী করা হচ্ছে কবর শেষ ইচ্ছা পূরণে অনুমতি দেয়া হয়েছে নামাজ পড়ার, থেমে থেমে চলছে শারিরীক নির্যাতন! অবশেষে ৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপনের বিনিময়ে নিশ্চিত মৃর্ত্যুর ঘন্টার হাত থেকে বেঁচে এসে এমন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা জানালেন খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় থেকে অপহৃত ৩ বাঙ্গালী। এরা হলেন-পৌরসভার শশ^ানটিলা এলাকার আবুল খায়ের (৪৫), শাহজাহান (৪০) উভয় পিতা মৃত জাকির হোসেন ও বল্টুরাম টিলার মোস্তফা মিয়া (৩৫) পিতা মৃত মফিজুর রহমান তিনজনই কলা ব্যবসায়ী।

গত (২৫ অক্টোবর) মঙ্গলবার সকালে রামগড় পৌর এলাকার ৩ বাঙ্গালীকে অপহরণ করে মুক্তিপনের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে পার্বত্য জনসংহতি সমিতি ( জেএসএস সংস্কার) গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা এমনটাই অভিযোগ অপহৃত ও স্থানীয় বাঙ্গালীদের।

রামগড় থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইন উদ্দিন খান জানান, এঘটনায় অপহৃত একজন বাদী হয়ে রামগড় থানায় একটি অপহরণ ও চাঁদাবাজী আইনে মামলা করেছেন। অভিযোগ মূলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার সময়  কলা ক্রয়ের জন্য উপজেলার পিলাক ঘাট এলাকায় গেলে কয়েকজন ভারী অস্ত্রধারী অস্ত্র ঠেকিয়ে গভীর জঙ্গলে মাটিরাঙ্গা উপজেলার মাইঝ্যা পাড়া নামক এলাকায় নিয়ে হাতপা বেঁধে শারিরিক নির্যাতন করে এবং ৪ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে অন্যথায় মেরে ফেলার হুমকী দেয়া হয়। এদিকে টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় তাঁদের জন্য কবর তৈরী করা ও শেষ ইচ্ছা পূরণে নামজ পড়তে বলা হয়।
অপহৃত মোস্তফার বড় ভাই আলম জানান, দুপুরের দিকে ঘরের মোবাইল ফোনে তার ছোট ভাইয়ের কল আসে এবং বলা হয় তাঁকেসহ ৩ জনকে অপহরণ করা হয়েছে বিকেলের মধ্যে ৪ লক্ষ টাকা নির্দেশনা মোতাবেক না দিলে তাঁদের হত্যা করা হবে। নির্দেশনা মোতাবেক দেন দরবার করে সন্ধার আগেই ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠানো হয় বাকী টাকা মুক্তির পরে দেয়ার সিন্ধান্ত হলে সন্ধা ৬টার সময় তাঁর ভাইসহ ৩জনকে মুক্তি দেয়া হয়।

অপহৃতরা জানান, মাইঝ্যাপাড়া এলাকার গভীর জঙ্গলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি ভারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদল তাদের গেরাও করে রাখে। অপহরণকারীদের কয়েক নিজেদের জেএসএস সংস্কার গ্রুপের সদস্য বলে দাবী করে  এবং মুক্তিপনের টাকায় তাঁদের নেতাকে কারাগার থেকে মুক্তকরা হবে বলে জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*