একি বললেন খাগড়াছড়ি পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: একি বললেন! খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যের রেশ টানা ৩ ঘন্টার আনন্দময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ও বাড়ী ফেরার মুহুর্তেও শিল্পী ও আগত দর্শকদের মুখে মুখে ছিল মুখরোচিত। অনুষ্ঠান শেষে একাধিক শিল্পীর অভিমত, বর্তমান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দুরদর্শিতায় এবং আন্তরিকতায় এ জেলার সংস্কৃতি অঙ্গন আগের তুলনায় অনেকটা প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। শিল্পীরা অনুশীলনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা পাবার  পাশাপাশি বেশ কিছু সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

কি বলেছিলেন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী:

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেছেন, এ অঞ্চলের নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব অপরিসীম। পাহাড়ের কৃষ্টি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় বর্তমান জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার বদ্ধপরিকর এবং আন্তরিক। এখানকার শিল্পীদের শুধু জেলায় নয়, জাতীয় ও বিশ্ব সংস্কৃতিতে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি করে বিশ্ব দরবারের পাহাড়ের সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদও আন্তরিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রেখেছে। তিনি আজ খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ইন্সটিটিউটে অনুষ্ঠিত উচ্চতর লোকনৃত্য (রায়বেঁশে) ২০১৬ উপলক্ষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ ও সমাপনী  অনুষ্ঠানে প্রধান  অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এসময় তিনি সংস্কৃতির উন্নয়নের মাধ্যমে সামাজিক অবক্ষয় রোধ,  জঙ্গীবাদ -সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে যুব সমাজকে সংস্কৃতি চর্চার আহবান জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ইন্সটিটিউট এর নির্বাহী পর্ষদের শিক্ষাবিদ মধুমঙ্গল চাকমা, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  শ্রীলা তালুকদার,  ইন্সটিটিউটর পরিচালক সুসময় চাকমা প্রমূখ।অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ইন্সটিটিউটর  গবেষক চিংলামং চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পাজেপ চেয়ারম্যান রায়বেঁশে নৃত্যে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ২১জন, মাতৃভাষায় ককবরক-৩৫জন, উচ্চতর তবলায়-৩০জন ও উচ্চতর সাধারন সংগীতে ৩০জনকে সনদপত্র তুলে দেন।

রায়বেঁশে নৃত্য: ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের অন্যতম একটি লোক নৃত্য হল ‘রায়বেঁশে’। এটি মূলত: পুরুষ প্রধান নৃত্য। পরবর্তীকালে নারীরাও এ নৃত্যে অংশ নেন। এই নৃত্যকে যুদ্ধ নৃত্য হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘রায়’ শব্দটির অর্থ ‘রাজকীয়’ এবং বাঁশ বা ‘বেঁশে’ শব্দটির অর্থ হচ্ছে বাঁশ। শুরুর দিকে রায়বেঁশে নৃত্য মূলত: ‘বাগদী’ সম্প্রদায়ের লোকদের দ্বারা পরিবেশিত হত। যারা জমিদারদের পাহারাদার হিসেবে কাজ করত। বর্তমানে রাঁয়বেশে নৃত্য বীরভূম, বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে প্রচলিত রয়েছে। এ নৃত্যে বিভিন্ন প্রকার এ্যাক্রোবেটিকস এর মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়। এছাড়াও এ নৃত্যে লাঠি, ঢোল, বাঁশ, তলোয়ার এর ব্যবহারও হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*