উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত প্রবারণা উৎসব

probaronaনিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা ।  ‘ফানুসের আলোয় দূর হোক সাম্প্রদায়িক অন্ধকার’- বৌদ্ধদের এমন স্লোগানে শনিবার সারা দেশের বৌদ্ধ বিহারে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা পূজা অর্চনার আয়োজন করা হয়েছে। সকালে বুদ্ধ পুজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, সংঘ দান, অষ্ট পরিষ্কার দান, হাজার বাতি দান ও ধর্ম দেশনা দেয়া হয়। বিকালে বিহারগুলোতে বিশেষ প্রার্থনা, নদীতে নৌকা ভাসানো, হাজার বাতি প্রজ্জ্বলন ও ফানুস বাতি উড়িয়ে প্রদীপ পুজা করা হয়। তবে একই ধর্মাবলম্বী হলেও অনেকটা আলাদাভাবে মারমা জনগোষ্ঠীর লোকেরা শনিবার ওয়াগ্যো প্যোয় উৎসব পালন করে। তারা ধর্মীয় রীতিনীতির বাইরে সামাজিক উৎসব পালন করে। বিশেষত হাজার ফুল দিয়ে বুদ্ধপূজা ও সাধ্যমত ভান্তেকে ছোয়াইং (খাদ্য) প্রদান করা মারমা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য। দিনটি উপলক্ষে মারমা তরুণ-তরুণীরা উৎসবে অংশ নেয়। সন্ধ্যায় নৌকা ভাসানো হয় চেঙ্গী নদীতে। শুভ প্রবারনা পূর্ণিমার দিন শনিবার সকালে সিলেট বৌদ্ধ বিহারে শুরু হয় বুদ্ধপূজা। এর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, অষ্টশীল গ্রহণ, পঞ্চশীল গ্রহন, স্বধর্মালোচনা ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। সন্ধ্যায় ফানুস উত্তোলনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

এ নিয়ে বৌদ্ধদের ঘরে ঘরে চলছে আনন্দ-উৎসব। বর্ষাবাস শেষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা পালিত হয়। প্রবারণা পূর্ণিমার পর দিন থেকে দেশের বিহারে বিহারে শুরু হবে পবিত্র কঠিন চীবর দানোৎসব। দিবসটি উপলক্ষে প্রভাতফেরি, ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশ, জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন, ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান, শীল গ্রহণ ও প্রদীপ পূজার আয়োজন করা হয়। দিনের শেষে সন্ধ্যায় তীথির মূল আকর্ষণ পবিত্র ফানুস উড়ানো উৎসব। বাষারী পূর্ণিমা থেকে তিন মাস বর্ষাব্রত পালন করে আশিবনী পূর্ণিমায় পরিসমাপ্তি ঘটে।  বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এ পূর্ণিমা তিথিতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নিজ কৃত অপরাধ বা পাপ স্বীকার করে পরিশুদ্ধ হয়। ফলে এটি প্রবারণা পূর্ণিমা নামে খ্যাত। এ তিথিতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আকাশে ফানুস বাতি উড়িয়ে পূজা করে। প্রচলিত আছে গৌতম বুদ্ধের চুল আকাশে ভাসমান। এ চুলের কাছাকাছি পৌঁছতেই ফানুস বাতি উড়িয়ে পূজো করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*