উন্মুক্ত টেন্ডারে নিকুজেশন প্রশ্নই ওঠে না: পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধৃুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সম্প্রতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের টেন্ডার সংক্রান্তে স্থানীয় ঠিকাদার কল্যান সমিতি কর্তৃক ভাগ-বাটোয়ার অভিযোগকে প্রত্যাখান করে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী সাফ জানিয়েছেন উন্মুক্ত টেন্ডারে কোন অপশক্তির সাথে নিকুজেশন (ভাগাভাগি) হবে না। বিগত দুই বছরও নিকুজেশন হয়নি, আগামীতেও প্রশ্নই ওঠ না।

তিনি খাগড়াছড়ি ঠিকাদার কল্যান সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আনীত অভিযোগের বিষয়ে রোববার বিকালে এক প্রশ্নের জবাবে সাফ এমনটাই জানালেন।

তিনি বলেন, বর্তমান অন্তবর্তীকালীন পরিষদ গঠনের পর এ যাবত যত টেন্ডার আহবান করা হয়েছে সবকটি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি যথানিয়মে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগেও এখানকার একটি অপশক্তি বহর নিয়ে পরিষদের টেন্ডার নিকুজেশন করতো, তারা কখনো টেন্ডার উন্মুক্ত হউক তা পছন্দ করে না। এবারো স্থানীয় দিদারগং আমাকে(পাজেপ চেয়ারম্যান) ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে টেন্ডার নিকুজেশন (ভাগাভাগি) করার প্রস্তাব দিয়েছিল। যা আমরা প্রত্যাখান করায় তারা বর্তমান সরকারের সুনাম বিনষ্ঠে ও পাহাড়ের বৈসাবি বানচাল করতে শহরে মাইকিং, ২এপ্রিল এইচএসসি পরীক্ষা শুরু জানার পরও মানববন্ধন কর্মসূচির আহবান করে খাগড়াছড়ি জেলায় আওয়ামীলীগকে নিয়ে ঠাট্টা শুরু করে নিজেরাই বিএনপির সাথে বসে সংবাদ সম্মেলন করে সুবিধাবাদীর পরিচয় দিয়েছে। এছাড়াও তারা সড়ক জনপথ ও গণপূর্ত বিভাগ, উপজেলা পিআইও শাখার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে আসার বিষয়টি পুরো জেলাবাসী অবগত।

তিনি আরো বলেন, খাগড়াছড়ি জেলায় ঠিকাদার কল্যান সমিতির পাশাপাশি উপজাতি ঠিকাদার কল্যান সমিতিও রয়েছে। উপজাতি ঠিকাদার কল্যান সমিতির সদস্যসহ ঠিকাদার কল্যান সমিতির একাধিক ঠিকাদার উন্মুক্ত টেন্ডারে অংশ নিয়ে লটারীর মাধ্যমে কাজ পেয়েছেন। তারাতো কোন আপত্তি করেনি। এসময় পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে উন্মুক্ত টেন্ডার হয়েছে এবং আগামীতে হবে, সরকারি ফান্ডে রাজস্বও জমা হয়েছে। এছাড়াও আগামীর টেন্ডারগুলো ই-টেন্ডারের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, রোববার সকালে খাগড়াছড়ি ঠিকাদার কল্যান সমিতির কার্যালয়ে ১৫ কোটি টাকার কাজ বিনা টেন্ডারে ভাগভাটোয়ার প্রতিবাদে  সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৮৭ গ্রুপ কাজ বিনা নোটিশে টেন্ডার ছাড়া সাধারন ঠিকাদাদের বঞ্চিত করে নিজেদের ভাগভাটোয়ারা করে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আনা হয় । এতে ঠিকাদারদের বঞ্চিত করার পাশাপাশি সরকারের কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে অভিযোগ করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন খাগড়াছড়ি ঠিকাদার কল্যান সমিতির উপদেষ্টা ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, খাগড়াছড়ি ঠিকাদার কল্যান সমিতির আহবায়ক আব্দুল মোবিন,সদস্য সচিব দিদারুল আলম ও যুগ্ম আহবায়ক তাজুল ইসলাম বাদলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*