উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ৮ ফেব্রুয়ারি: গ্রেফতার আতংকে খাগড়াছড়ি বিএনপি, ছাত্রলীগের মাঠে থাকার হুংকার

আবুল কাসেম: ডেডলাইন ৮ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে শান্তির শহর খাগড়াছড়িতে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ মামলার রায় এদিন। এ রায়কে ঘিরে রাজপথ দখল নিয়ে খাগড়াছড়ির রাজনৈতিক মহলেও নানা হিসাব-নিকাশ চলমান থাকলেও গ্রেফতার আতংক বিরাজ করছে বিএনপির দুর্গে। অপর প্রান্তে রায়ের দিন ও রায়ের পুর্ব দিন বিকাল হতে যে কোন নাশকতা ও সহিংসতা ঠেকাতে খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগ রাজপথে থাকবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

এদিকে, রায়কে ঘিরে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে, তা কিভাবে মোকাবেলা করবে সরকার অথবা সরকারি দল। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীন খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পাল্টাপাল্টি স্পষ্ট্য বক্তব্য না আসলেও গত দুইদিনে পুরো জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার ও পুলিশী তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সন্ধ্যার পর বাজার এলাকার দোকানপাটসহ বিভিন্ন এলাকায় চায়ের টেবিল ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বেলা গড়ানোর আগেই। তবে থেমে নেয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কে (ফেইসবুক) আওয়ামীলীগ-বিএনপির নেতাকর্মীদের বাকযুদ্ধ। আর এ বাকযুদ্ধ মাঠে গড়ালে কি ঘটবে-এমন প্রশ্নে অনেকের।

সূত্র জানায়, এ রায়কে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ির পুরো জেলায় গ্রেফতার আতংকে ভূগছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন থানায় নাশকতার আশঙ্কায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশও এ অভিযানে অংশ নিচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাশকতার আশঙ্কায় এ পর্যন্ত পুরো জেলায় ২৪ জন বিএনপির নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। তবে জেলা বিএনপি দাবি করেছে বিভিন্ন উপজেলা থেকে তাদের ৩৩ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। আটককৃত বিএনপি নেতাকর্মীদের মঙ্গলবার (৬ফেব্রুয়ারি) আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালত ১০জনকে  জামিন ও বাকিদেরকে কারাগারে প্রেরণ করে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে দাবি পুলিশের।

জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ২০১৪ সালের ৫জানুয়ারি এ জেলায় আওয়ামীলীগ-বিএনপির মধ্যে সংঘষের্ষর পর দল দু’টোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি তেমন বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। সেই ৫জানুয়ারির ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীদের আসামী করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বাদী হয়ে ২টি মামলা আজো চলমান। অথচ অপর প্রান্তে খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামীলীগের দু’টি গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা, অর্ন্তকোন্দলের কারনে নেতাকর্মীদের মারধরের ঘটনা প্রবাহ ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে নানা ঘটনায় বিগত বছরগুলোতে সময়-অসময় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হলেও গত দুই দিন সবখানেই একই আলোচনা- আবার কি মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি। রাজনৈতিক মহলসহ সব অঙ্গনেই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। চায়ের কাপে উঠছে ঝড়। কি হবে এদিন!

স্থানীয় সূত্র জানায়, রায়কে কেন্দ্র করে জেলা শহর বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে চলছে পুলিশের অভিযান। গ্রেফতার এড়াতে ইতোমধ্যে আত্নগোপনে চলে গেছে অধিকাংশ বিএনপি নেতাকর্মী। অনেক নেতাকর্মীয় অপরিচিত মোবাইল কলও রিসিভ পর্যন্তও করছে না।  নিজের বাড়ি থেকে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে। কেহ বা গ্রেফতার এড়াতে পরিবার পরিজন নিয়ে অন্য জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভ্রমন চলে গেছে। কেহ বা চিকিৎসার কথা বলে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

বিএনপির সূত্র জানায়, আটককৃতদের মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মফিজ মিয়া ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, মহালছড়ি উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি নবী হোসেন ও প্রচার সম্পাদক জিন্দা মিয়া, গুইমারা উপজেলার হাফছড়ি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি জসিম মিয়া, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সোহেল ও যুবদল কর্মী আলমগীর, মানিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, পানছড়ি জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ওসমান গণির নাম জানা গেছে।

খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এমএ সালাউদ্দিন  জানান, আগামী আট ফেব্রুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার রায়কে সামনে রেখে সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় এদের আটক করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেল ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজ জানান, ৮ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক রায়ের দিন। এ রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের দ্বারা খাগড়াছড়ির শান্ত পরিবেশ বিনষ্ঠ করার অপচেষ্টা রোধ করতে জেলা ছাত্রলীগ মাঠে সক্রিয় থাকবে। তিনি আরো জানান, রায়ের আগের দিন বুধবার বিকালে খাগড়াছড়ি শহরে সহিংসতা  ঠেকাতে ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালনের  সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এম এন আবছার জানান, গ্রেফতারী পরোয়ানা ছাড়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাড়ি-ঘরে তল্লাশী ও গণগ্রেফতার চালাচ্ছে পুলিশ। গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছে নেতাকর্মীরা। আটককৃতদের বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেয়া হচ্ছে । আটককৃত সকল নেতাকর্মীদের নি:শর্তে মুক্তির দাবী জানিয়েছেন জেলা বিএনপির এ নেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*