আসছে পাহাড়ের প্রাণের উৎসব বৈসাবি: প্রস্তুত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ

DSC_5387মুহাম্মদ আবুল কাসেম: আগামী ১১ এপ্রিল থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী প্রাণের উৎসব ‌‘বৈসাবি’। পাহাড়ের বসবাসরত পাহাড়ী-বাঙালির মিলন মেলার সার্বজনীন এ উৎসব পালনে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। বরাবরের ন্যায় এবছরো সকল সম্প্রদায়ের অংশ গ্রহণ নিশ্চিতকরণে বর্ণাঢ্য র‌্যালিতো থাকছে তার সাথে নতুনমাত্রায় যোগ হয়েছে গুণীজন সম্বর্ধনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১১এপ্রিল সকাল সাড়ে ৮টায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে হতে বের করা হবে বৈসাবি র‌্যালী। বৈসাবি র‌্যালিটি টাউন হল প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়ে টাউনহলেই অনুষ্ঠিত হবে গুণীজন সম্বর্ধনা। খানিকটা বিরতির পর সন্ধ্যায় টাউনহলে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ও জেলা শিল্পকলার যৌথ উদ্যোগে পরিবেশন করা হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব বর্ণাঢ্য আয়োজন সফল ও সুন্দর করতে গঠন করা হয়েছে একাধিক উপ-কমিটি।

আজ (রোববার) দুপুরে বৈসাবি ও বাংলা নববর্ষ-১৪২৩ উদযাপন লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ হলরুমে পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় এসব কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত  করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী, পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানসহ খাগড়াছড়ি রিজিয়নের প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক পরিষদের প্রতিনিধি। সভার শুরুতে গত বছরের বৈসাবি পালনের কর্মসূচিগুলো নিয়ে আলোকপাত করেন পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা আ: রহমান তরফদার। এসময় মুক্ত আলোচনায় মতামত প্রদান করেন সনাক সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ ড. সুধীন কুমার চাকমা, পাজেপ সদস্য জাহেদুল আলম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, প্রেসক্লাব সভাপতি জীতেন বড়ুয়া, খাগড়াছড়ির জৈষ্ঠ্য সাংবাদিক তরুন কুমার ভট্টাচার্য্য, সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন, এনজিও প্রতিনিধি ও খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কর্মকর্তা জীতেন চাকমা প্রমূখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও সরকারি বেসরকারি প্রতিনিধিসহ জেলার একাধিক সংবাদকর্মী।

অনুমতি বিহীন বৈসাবির কোন  র‌্যালি বের করা যাবে না:

প্রস্তুতি সভায়  খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মো. মজিদ আলী (বিপিএম) সেবা বলেন, বৈসাবির আনন্দে যে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও সমন্বয় বজায় রাখতে সকল কর্মসূচিসমূহ শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে পালনে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় অনুমতি ছাড়া শহরে র‌্যালি বের করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন এ দুই কর্মকর্তা।

সভাপতির বক্তব্যে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী  বৈসাবির আনন্দ যেন পাহাড়ী-বাঙালির মিলন মেলায় পরিণত হয় এবং সম্প্রীতির বন্ধন অটুট বজায় রাখার স্বার্থে সমাজের সকল স্তরের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*