আশার বাণী শুনতে শুনতে কান ঝাঁঝড়া: ৪০বছরেও নির্মাণ হয়নি মাটিরাঙা-মোহাম্মদপুর সংযোগ ব্রিজ

M Bridgeঅন্তর মাহমুদ: “সাংবাদিক ভাই, আন্নে কিয়াল্লাই আইছেন। আন্নেওকি হেতেগো’র মতো আশার বাণী হুনাইবেন্নি’’ এভাবেই নোয়াখালী জেলার আঞ্চলিক ভাষায় মনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙার মোহাম্মদপুর এলাকার রহিম উল্যাহ (৩৮)। তিনি বলেন, এভাবে আশার বাণী শুনছি প্রায় ৩০-৩৫বছর। ব্রিজ নির্মাণ এ অর্থ বছরই হবে, হচ্ছে এসব কথা শুনতে শুনতে আমাদের কান ঝাঁঝড়া !

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটিরাংগা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড হাসপাতাল পাড়ার সাথে বিশাল জনবসতিপুর্ন মোহাম্মদপুর এলাকার মধ্যবর্তী সংযোগ সেতুটি এলাকাবাসীর প্রাণের দাবী হলেও দীর্ঘ ৪০ বছরেও নির্মান না হওয়ায় মিস্ত্রি পাড়া,বরঝালা,রসুলপুর আটবাড়ীসহ মোহাম্মদ পুর এলাকার প্রায় ৮ হাজার মানুষ  চরম দূর্ভোগে দিন পার করেছ। শুকনো মৌসুমে কোন ভাবে চলাচল সম্ভব  হলেও বর্ষা মৌসুমে পুরো অসম্ভব। বর্ষায় স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যেমনি এসময় স্কুলে যেতে পারেনা, তেমনি সেতুর অভাবে ঝুকিপুর্ণ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে ।  এছাড়াও অত্র এলাকার কৃষিজীবি মানুষের নিজস্ব ক্ষেতে উৎপাদিত পণ্য যথাসময় বাজারজাত করতে না পাড়ায় ধীরে ধীরে কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনকারীরা উৎসাহ হারাচেছ। ফলে ব্যহত হচেছ এখানকার স্বাভাবিক জীবন যাত্রার মান আর অর্থনৈতিক,সামাজিক ও শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে এখানে বসবাসকারী হাজার হাজার সাধারণ গ্রামবাসী। তবে আশার আলো দেখালেও এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন আশংকা জন্ম নিয়েছে। জানা যায়, গত মাস দু‘য়েক পুর্বে ৭নং ওয়ার্ডের নব-নির্বাচিত কাউন্সিলর মো: আবুল হাশেম ভুইয়া নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যক্তিগত উদ্যেগে  চলাচলের সুবিধার্থে মোটরসাইকেল যাতায়াত করার মতো সাময়িক সময়ের জন্যে একটি কাঠের ব্রীজ নির্মাণ করেছেন । বর্ষায় সর্বনাশা ধলিয়া খালের পানি বৃদ্ধি পেলেই তাদের সেই সুবিধা নিমিশেই শেষ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসীরা। তারা বলেন,আমরা এবার অনেক আশা নিয়ে নতুন মেয়র নির্বাচিত করেছি ,আশা করছি নব-নির্বাচিত মেয়র মো: শামছুল হক মোহাম্মদ পুর বাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবী পুরণে মোহাম্মদ পুর ও হাসপাতাল পাড়া মধ্যবর্তী স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

মোহাম্মদপুরের সাধারণ এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা শুধূ আগামী অর্থবছরে এই সেতুটির কাজ সম্পন্ন করা হবে এমন আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর । কিন্তু আগামীর পর আগামী অর্থ বছর আসলেও সেতুটি নির্মাণ কাজ হয়নি আজও। যে সরকার ক্ষমতায় থাকুক সেই সরকারের জনপ্রতিনিধিরাই বছরের পর বছর শুধুই এলাকাবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। স্থানীয়রা জানান, মাটিরাংগা শহরের পাশেই অবস্থান হওয়া সত্বেও ঠিক কোন কারণে সদরের সাথে আজও এই অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীরা প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের যোগ্যনেতৃত্ব আর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের যথাযথ পরিকল্পনার অভাবকেই দায়ী করেছেন। এলাকাবাসী মো: আবুল বাশার, মোহাম্মদপুর মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন বাসিন্দা সূত্রে আরও জানা যায়, বিগত দিনে উন্নয়নের নীতি নির্ধারকরা বিভিন্ন অজুহাতে দেখিয়ে খেটে খাওয়া মানুষের একমাত্র দাবী মোহাম্মদপুর সেতুটি নির্মাণ না করায় তারা বঞ্চিত হয়েছে বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে।

 এবিষয়ে ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: আবুল হাশেম ভুইয়া জানান, সেতুটি নির্মানের বিষয়ে ইতিমধ্যে পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছি যার সুফল আমরা শীঘ্রই পাবো বলে মনে করছি। তিনি দৃঢ় কন্ঠে তাঁর মেয়াদেই সেতুটি নির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন,আগামী কিছুদিনের মধ্যে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মাটিরাঙ্গা আসলে আমি বিষয়টি সরাসরি উপস্থাপন পূর্বক জোরদাবী জানিয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*