আলুটিলায় পর্যটন জোন বাতিল চেয়ে ৪ দফা দাবী প্রস্তাব

IMG_20160904_095108নিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ির আলুটিলায় বিশেষ পর্যটন জোন বাতিল করে সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে নব্যসৃষ্ট আলুটিলা ভূমি রক্ষা কমিটি নামক এক সংগঠন। আজ (রোববার) সকালে আলুটিলা রিছাং ঝর্ণার রাস্তার মুখে আলুটিলা ভূমি রক্ষা কমিটির প্রথম সম্মেলনে বক্তারা এসব দাবী জানান।
সংগঠনটির সদস্য রিতা রোয়াজা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানান, ‘সরকার আলুটিলায় বিশেষ পর্যটন জোন নয়, গঠন করছে পাহাড়িদের জন্য বিশেষ ডেথ জোন। প্রস্তাব গ্রহণের আগে আলুটিলাবাসীর মতামত নেয়া হয়নি। অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, মনস্তাত্মিক ও পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কেও গবেষণা করা হয়নি।’ সরকার আলুটিলায় বিশেষ পর্যটন জোন গঠনের নামে পাহাড়ি উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে।  ‘আলুটিলায় বিশেষ পর্যটন জোন গঠন করা হলে তিনটি মৌজার ২১টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে, সামাজিকভাবে, পরিবেশগতভাবে এবং মনস্তাত্মিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

আলুটিলা ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব জয়ন্ত ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্য সাগর ত্রিপুরা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র প্রসেনজিত ত্রিপুরা, আলুটিলা ভূমি রক্ষা ছাত্র জোটের আহ্বায়ক তনয় ত্রিপুরা, পিসিপি চবি শাখার তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রূপন চাকমা, পিসিপি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য অমল ত্রিপুরা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থুইক্যচিং মারমা, মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য দোতারা বালা ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি চাইহ্লাউ মারমা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়: সম্মেলনের গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটির সদস্য আনন্দ চাকমা, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শান্তিপ্রভা চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশন খাগড়াছড়ি জেলাশাখার দপ্তর সম্পাদক দ্বিতীয়া চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি, প্রগতিশীল মারমা ছাত্র সমাজ জেলা শাখার সভাপতি উক্যচিং মারমা, বাংলাদেশ ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরাম খাগড়াছড়ি সরকারী কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক টেতুসা ত্রিপুরা এবং ইউপিডিএফ খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক রিকো চাকমা।

দাবি সমূহ: আলুটিলার স্থায়ী বাসিন্দাদের দালিলিকভাবে জমির বন্দোবস্তী প্রদান করা, আলুটিলা এলাকায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলোচনা করে এমন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে যাতে কাউকে নিজ জমি থেকে উচ্ছেদের শিকার হতে না হয়, আলুটিলায় ফলজ, বনজ ও ঔষধী গাছের বাগান সৃজনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের আর্থিকসহ সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*