আমি বিস্মিত ! কেন ৫০বছরে পুরো গ্রামে প্রথম ১জন ডিগ্রীপাশ: শিক্ষানুরাগী খগেশ্বর ত্রিপুরা

16442869_1406290852748746_1412514409_oনিজস্ব প্রতিবেদক: আমি বিস্মিত! বর্তমান যুগে কেন ত্রিপুরা পাড়ায় ৫০বছরের মাথায় পুরো গ্রামে মাত্র ১জন ডিগ্রী পাশ! আমি আশাবাদী শিক্ষাবান্ধব বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেবেন্দ্র মোহন পাড়ার ন্যায় পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর গ্রামগুলো অচিরেই আলোকিত হবে।
এর আগে বলতে হয়, দেবেন্দ্র মোহন পাড়া হতে সঞ্জয় ত্রিপুরা নামক এক যুবক প্রথম ডিগ্রী পাশ করেন। সে ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দেবেন্দ্র মোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। তার এমন অর্জনে  পুরো গ্রামে এখন খুশির বন্যা বহিছে।
এমনটাই বিস্ময় ও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের অন্যতম সদস্য শিক্ষানুরাগী খগেশ্বর ত্রিপুরা। তিনি আজ বিকালে দেবেন্দ্র মোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ৪মাইল, তৈবাকলায় পাড়া, ৫মাইল, কামিনী পাড়া ও ৩মাইল এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্যোগে সার্বজনীন বাণী অর্চনা উদযাপন, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধান অতিথি খগেশ^র ত্রিপুরা স্থানীয় গ্রামবাসীদের খাগড়াছড়ি জেলার সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীর পক্ষে স্বরসতী বাণী অর্চনা উপলক্ষে অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, পাহাড়ের এখনো শিক্ষার দিকে ত্রিপুরা জাতি চরম ভাবে পিছিয়ে রয়েছে। জেলা সদরের ৪মাইল দুরুত্বে গ্রামটি যেন এখনো বাতির নিচে অন্ধকারে রয়েছে। এর মূল কারন হিসেবে তিনি সমাজের কুসংস্কারকে দায়ী করে বলেন, সঞ্জয় ত্রিপুরা দেবেন্দ্র মোহন পাড়ায় যেন হেলে পড়া ধুমকেতুর ন্যায়। তিনি গ্রামটির প্রথম ডিগ্রী পাশ অর্জনকারী সঞ্জয় ত্রিপুরার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং তারই মাধ্যমে পুরো গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আগামীতে এই গ্রাম হতে আরো বেশি সাফল্য বয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন। এসময় তিনি এলাকার যুব সমাজকে সামাজিক সংগঠন ক্লাব তৈরির প্রারম্ভিক কাজ শুরু করতে ৫হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।
16491302_1406291512748680_1939099529_oঅনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ১৯৮৪ সালে খাগড়াছড়ি জেলায় ১৫জন বিএ পাশ গুণীজনের মধ্যে আজকের প্রধান অতিথি খগেশ^র ত্রিপুরা ছিলেন অন্যতম। ১৪টি তৃতীয় বিভাগে ডিগ্রীধারীদের মধ্যে পাজেপ সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরা ছিলেন একমাত্র দ্বিতীয় বিভাগে কৃতিত্ব অর্জনকারী। যাদের প্রয়াত শিক্ষাবিদ নবীন কুমার ত্রিপুরার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদের পক্ষ হতে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছিল। সেই সেব গুণীজনদের মধ্যে ৫০বছর পর এই গ্রামে পশ্চাৎপদ অনগ্রসর ত্রিপুরা সমাজের অগ্রদূত পাজেপ সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরার পদার্পনে ও আগমনে দেবেন্দ্র মোহন পাড়াটি আলোকিত হবে, এলাকার উন্নয়ন ঘটবে এমনটাই প্রত্যাশা  গ্রামবাসীর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ত্রিপুরা জাতির ঐতিহ্যবাহী ১৪টি ইভেন্টের খেলাধূলায় বিজিতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন দেবেন্দ্র মোহন পাড়া সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অজিন্দ্র কুমার ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যান সংসদ খাগড়াছড়ি সদর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব কান্তি ত্রিপুরা, ৪নং পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৩নং মহিলা সদস্য গীতা রানী ত্রিপুরা, মেম্বার ও বাত্রিকস পেরাছড়া পূর্ব আঞ্চলিক শাখার সভাপতি জমেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় যুব সমাজের প্রতিনিধি ধন কান্তি ত্রিপুরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুব সমাজের প্রতিনিধি দহেন ত্রিপুরা। এছাড়া বক্তব্য রাখেন স্থানীয় কার্বারী বিকাসিন্ধু ত্রিপুরা ও সঞ্জয় ত্রিপুরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*