আজ রাজধানীতে সিএইচটি কমপ্লেক্স’র ভিত্তিফলক উন্মোচন: আগামীকাল খাগড়াছড়িতে হরতাল

chtcomplexমুহাম্মদ আবুল কাসেম: আজ ৮মে’ ২০১৬ (রোববার)। নতুন ভাবে দেশের ইতিহাসে আবারো যোগ হতে যাচ্ছে পার্বত্যবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতার অনন্য দৃষ্টান্ত। রাজধানীর বেইলী রোডে প্রায় ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে “পার্বত্য চট্রগ্রাম কমপ্লেক্স” নামে নান্দনিক ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ খবরে যেমনি পার্বত্যবাসীর মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে তেমনি বিপরীতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বৈষম্যমূলক আচরনে নতুন ভাবে  পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে ধারক দেয়াল নির্মিত হয়েছে। এমনটাই দাবী পাহাড়ের বাঙালি সংগঠনগুলোর। প্রশ্ন ওঠছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সটি পার্বত্যবাসীর জন্য নির্মিত হবে নাকি বৃহত্তর বাঙালি (অ-উপজাতি) জনগোষ্ঠিকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র পাহাড়ীদের জন্য। এদিকে,  বৈষম্যের অভিযোগ এনে খাগড়াছড়িতে আগামীকাল ৯মে’১৬ (সোমবার) খাগড়াছড়ি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে পার্বত্য বাঙালি সংগ্রাম পরিষদ। সংগঠনটির প্রেসসচিব ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত প্রেরিত বিবৃতিতে এ কর্মসূচির ডাক দেন। সংগঠনটির দাবী, বৈষম্য নয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সে পাহাড়ের সকল জনগোষ্ঠির  সুযোগ সুবিধা যেন নিশ্চিত হয়।

গোড়ায় বৈষম্যমূলক আচরণ: বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে খাগড়াছড়ির স্থানীয় সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পাজেপ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীসহ জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রচেষ্ঠা ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ ভূমিকায় সম্প্রতি খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী-বাঙালির মধ্যে সম্প্রীতির অটুট বন্ধন দেখা দিলেও নতুন ভাবে যেন বৈষম্যের ধারক দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি আদেশপত্র। জেলা পর্যায়ে নয়, মন্ত্রণালয়ে অর্থাৎ গোড়ায় বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে এমনটাই অভিযোগ ও মতামত পাহাড়ের বাঙালি সংগঠনগুলোর।

সংগঠনগুলো বিবৃতিতে জানান, গত ৭এপ্রিল পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব বিদুর্ষী চাকমা স্বাক্ষরিত এক আদেশে তিন পার্বত্য জেলা হতে ২শ করে মোট ৬শ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টিকে আমন্ত্রণ করার নির্দেশনা দেয়া হয় তিন পার্বত্য জেলা পরিষদকে। প্রধানমন্ত্রীর এমন অনুষ্ঠানে বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠিকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির লোকজনদের আমন্ত্রণ করার এমন বৈষম্যমূলক আচরণে পাহাড়ের বাঙালি সংগঠনগুলো আন্দোলনে নেমেছে। সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, শুরুতেই এ কমপ্লেক্স’র সুযোগ সুবিধা হতে বাঙালিদের বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিন পার্বত্য জেলায় যারা বসবাস করে তারা সবাই যদি পার্বত্যবাসী হয়, তাহলে শুধুমাত্র কেন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠিদের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এবং বাঙালিদের বিষয়ে বৈষম্য আনা হবে। এ ঘটনায় পার্বত্য নাগরিক পরিষদ ঢাকায় মানববন্ধন, পার্বত্য বাঙালি সংগ্রাম পরিষদ খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এদিকে, বৈষ্যমের অভিযোগে আগামীকাল ৯মে (সোমবার) খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কর্মসূচি ডাক দিয়েছে পার্বত্য বাঙালি সংগ্রাম পরিষদ।

বাঙালি সংগঠন গুলোর দাবী, পার্বত্য কমপ্লেক্স, পার্বত্যবাসী জন্য নির্মিত হলে পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরো বেশি অটুট হবে। তবে শুধুমাত্র পাহাড়ীদের জন্য নির্মান করা হলে তিন পার্বত্য জেলায় বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের নতুন ইস্যু সামনে দাড় করানো হচ্ছে।  পার্বত্য বাঙালি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর নিকট রাজধানীর বুকে একখন্ড পার্বত্য চট্টগ্রামে যেন পাহাড়ী-বাঙালির মিলন মেলার সুযোগ থাকে, কমপ্লেক্সে যেন শুধুমাত্র পাহাড়ী নয়, পার্বত্যবাসীই যেন সুযোগ সুবিধা ভোগ করার সম সুযোগ পায়।

এদিকে, পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা এএইচ এম জুলফিকার আলী জানান, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের উপনেতা ও শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পার্বত্য চট্রগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এবং পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র, আ, ম, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

তিনি আরো জানান, “পার্বত্য চট্রগ্রাম কমপ্লেক্স” শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারের মধ্য মেয়াদী বাজেটের অন্তর্ভূক্ত যা ২০১৬ সালের ০৯ ফেব্রুয়ারী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক-এ অনুমোদিত হয়। মাল্টিপারপাস হল, ডরমেটরি, প্রশাসনিক ভবন, মিউজিয়াম, লাইব্রেরি ইত্যাদি ছাড়াও পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও পার্বত্য চট্রগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণ করা হবে। ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পার্বত্য চট্রগ্রামের মানুষের সাথে সমতলের মানুষের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান, সহযোগিতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরিতে কমপ্লেক্সটি অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া স্থাপনাটি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি-নীতি, ভাষা, ধর্ম এবং আচরণগত স্বাতন্ত্রতা সম্পর্কে বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষকে পরিচিত করে তুলবে। কমপ্লেক্সটি পর্যটকদের জন্য পার্বত্য চট্রগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও কৃষ্টি-সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক স্থাপনা হিসেবেও বিবেচিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*