অরক্ষিত অবহেলায় পাহাড়ের প্রথম বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভ !

DSC_2527নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্মানের পর অরক্ষিত ও অবহেলায় থাকলেও বর্ষার আগেই সুরক্ষার আহবান নিয়ে আজও অপেক্ষা করছে খাগড়াছড়ি জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা পানছড়ির জিরোমাইল নামক স্থানে পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি স্তম্ভ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানছড়ির বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভটির আশ-পাশে কোন সুরক্ষা দেওয়াল নেই। পিছনের উপরের পাশে বসবাসরত স্থানীয়দের গোসল খানা, ল্যাট্রিনের পানি এসে আশ-পাশে নাজুকবস্থা সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্মৃতিস্তম্ভের সুরক্ষা দেয়াল না  থাকায় যত্রতত্র লোকজন জুতা পায়ে সন্ধ্যার পর হতে অসম্মানের সহিত আড্ডা জমায়। দেয়ালে ধুমপান নিষেধ লেখা থাকলেও তাও মানছে না বখাটেরা। এছাড়াও যত্রতত্র গরু-ছাগল ও কুকুর অধিকাংশ সময় স্মৃতিস্তম্ভেও আশ-পাশে ঘুরাফেরা করে। এ যেন দেখার কেহ নেই !
স্থানীয়দের অভিমত, যতটুকু সম্মানের সহিত স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছিল, নির্মানের পর হতে স্মৃতিস্তম্ভের সুরক্ষা নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে অবহেলা করে আসছে। অবহেলার কারনে স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদার লড়াইয়ে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। স্থানীয়রা স্মৃতিস্তম্ভের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে অধিকতর গুরুত্ব সহকারে স্মৃতিস্তম্ভের সুরক্ষা দেওয়াল নির্মাণে খাগড়াছড়ি জেলার সাংসদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, পার্বত্য জেলা পরিষদ সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পানছড়ির লতিবান ইউনিয়নের টানা তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, পানছড়ি কলেজ, সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরা  জেলা আওয়ামীলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্বপালনকালে স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে যুগ্মান্তকারী দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেন। এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মিত হয় স্মৃতিস্তম্ভটি, যা ২০১০ সালের ১৪ আগস্ট  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান উপজাতি শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা।
স্মৃতিস্তম্ভটি সুরক্ষা প্রশ্ন নিয়ে উদ্যোক্তা পাজেপ সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক, জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোভাবতায় ও স্থানীয় সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নেতৃত্বে  বর্তমান সরকারের আমলেই পার্বত্য চট্টগ্রাম দেশের উন্নয়ন মাইলফলক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পানছড়িতে নির্মিত পাহাড়ের প্রথম স্মৃতিস্তম্ভটি সুরক্ষতার স্বার্থে একজন পাজেপ সদস্য হিসেবে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে পার্বত্য জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্ন্তভুক্তির জন্য স্মৃতিস্তম্ভটির চারিদিকে অত্যাধুনিক মানের স্টিলের ওয়াল ও টিনের ছাউনী নির্মানে প্রাক্কলিত ব্যয় ১০লক্ষ টাকার একটি প্রকল্প জমা দেয়া হলেও অজানা কারনে তা আজো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।” তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*