অবশেষে দীঘিনালার নির্বাচন ফল জালিয়াতির অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে মামলা

fal jaliyatiনিজস্ব প্রতিবেদক: খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলার ৩নং কবাখালী ইউনিয়ন নির্বাচনে ফল জালিয়াতির অভিযোগে মঙ্গলবার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রাম জজ আদালত-৩-এ মামলা রুজু  করেছেন ইউপি সদস্যপ্রার্থী  জয়নাল আবেদীন।মামলা নং ০১/১৬।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, কবাখালি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ অফিস ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বিবরনীতে এক প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা কেটে তা বাড়িয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে পরাজিত প্রার্থীকে। আর সংখ্যা কেটে পরিবর্তনের কারণে এলাকার ভোটারের চেয়ে ভোট সংখ্যা বেড়ে গেছে। ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ওই কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন রসিকনগর দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপার আনিছুর রহমান। সেখানে সাধারণ সদস্য প্রার্থী ছিলেন দুজন। একজন জয়নাল আবেদীন মোরগ প্রতীক, অন্যজন আবুল কালাম আজাদ টিউব ওয়েল প্রতীক।মোরগ প্রতীকে ১ ভোট বেশি পেয়ে জয়নাল আবেদীন বিজয়ী হয়েছেন বলে কেন্দ্রে ভোট গণনার পর জানানো হয়। কিন্তু উপজেলা সদরে গিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার ফলাফল বিবরণী কেটে আজাদকে বিজয়ী দেখান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোকারী সদস্য প্রার্থী জয়নাল জানান, প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষরিত ফলাফল বিবরণীতে টিউবওয়েল প্রতীকে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৪০৮। কিন্তু সেটিকে কেটে দিয়ে পাশে লেখা হয়েছে ৪২১। আর মোরগ প্রতীকে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৪০৯। বাতিল ভোট দেখানো হয়েছে ৫৫। মোট প্রাপ্ত ভোট ৮৮৫। অনুপস্থিত ভোটার সংখ্যা লেখা হয়েছে ১৩৯। সে হিসাবে উপস্থিত আর অনুপস্থিত মিলে ভোটার সংখ্যা হয় ১হাজার ২৪ জন। কিন্তু একই ফলাফল বিবরণীর উপরের অংশে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৯৯৪ জন। জয়নালের অভিযোগ অবৈধভাবে আজাদকে বিজয়ী দেখানোর জন্য টিউবওয়েল প্রতীকের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা কেটে বাড়ানোর কারণে এলাকার  মোট ভোটারের চেয়ে ভোটের পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ জানান, কেটে থাকলে প্রিজাইডিং অফিসার কেটেছে, তিনি এর কিছু জানেন না।
খাগড়াছড়ি জেলা জজ আদালেতের আইনজীবী আক্তার উদ্দিন মামুন জানান, প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষরিত ফলাফল বিবরণীতে টিউবওয়েল প্রতীকের ভোটের সংখ্যা কেটে বাড়ানো হয়েছে- যা তা স্পষ্ট দেখা যায়। সে ফলাফল বিবরণীতে ভোটার আর ভোটের হিসাবে মিল নেই। এতে স্পষ্ট যে, মোরগ প্রতীকের প্রার্থীকে অসদুপায়ে পরাজিত দেখানো হয়েছে।
জানতে চাইলে প্রিজাইডিং অফিসার আনিছুর রহমান বলেন, ‘আসলে আমি শিক্ষিত মানুষ হয়ে কীভাবে এ ভুলটা করলাম, বুঝতে পারছি না।  তবে সীলগালা করা ব্যালটের সাথে হিসাবের মিল নেই এবং কেন্দ্র থেকে মোরগ প্রতীকের ব্যালট চুরি হয়েছে এ বিষয়টিও স্বীকার করেছেন আনিছুর রহমান। রিটার্নিং অফিসার জহরলার চাকমা জানান, একটানে সংখ্যাটা কেটে প্রতিস্বাক্ষর করাতে বিবরণীটি গ্রহণ করা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখন বাহিরে আছি, কপিটা দেখে ভোটার আর ভোটের হিসাবের ব্যাপারটা বলা যাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*