অবশেষে এমপির টিলায় ওঠলেন পৌর মেয়র রফিক: ইফতার করলেন-চমকেও দিলেন

মো: আবুল কাসেম, খাগড়াছড়ি:  ২০১৫ সাল হতে পৌর নির্বাচনকে ঘিরে চরম কোন্দলে জর্জরিত খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ ! তৃণমূল নেতাকর্মীরা দুই ভাবে বিভক্ত। কেহ এমপির টিলায়, কেহবা পৌর মেয়রের আস্থানায়। এভাবে আর কতদিন! সবকিছুকে ছাড়িয়ে এবার বরফ গলতে শুরু করেছে জেলা আওয়ামীলীগের দুটি দুর্গে। অবশেষে এমপির টিলায় ওঠলেন খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম। ইফতার করলেন এবং সবাইকে চমকেও দিলেন। তবে মেয়রের পাশাপাশি আওয়ামীলীগ নেতা জাহেদুল আলমসহ অপরাপর নেতাকর্মীরা যোগ দেননি।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা গ্রুপের আয়োজনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে তিনি (পৌর মেয়র রফিকুল আলম) ইফতারীর ১০-১২মিনিট আগে যোগ দেন। শহরের কদমতলীস্থ পাহাড়ের ওপর নির্মিত পার্বত্য জেলা পরিষদ কম্পিউটার সেন্টারে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের কাছে ওই টিলা এমপির টিলা হিসেবে বেশ পরিচিত। আওয়ামীলীগের কোন্দল সৃষ্টির পর ওই টিলা হতে আওয়ামীলীগের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। অপরদিকে, জেলা আওয়ামীলীগের অপর একটি অংশ (জাহেদুল আলম গ্রুপ) অনুসারীরা কলেজ সড়কস্থ দলীয় কার্যালয় হতে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। একই কর্মসূচি দুই পক্ষের পালনে যেমনি স্থানীয়রা বিব্রত হয়েছেন তেমনি কোন্দলের সুযোগও নিয়েছেন জেলা বিএনপি।

ইফতার শেষে বিভিন্ন উপজেলা হতে আগত আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দরা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতার রক্ষার জন্য দলীয় কোন্দলের নিরসনের বিকল্প নাই।তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবী, বিরোধ নিরসনে কোনো বিকল্প নাই।

ইফতার মাহফিলে খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার, গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহাম্মদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শানে আলমসহ সরকারি বেসরকারিসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। ইফতারের শুরুতে টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বক্তব্য রাখেন। তিনি শান্তি, সহাবস্থানসহ সম্প্রীতি খাগড়াছড়ি বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। পরে বঙ্গবন্ধুর আত্নার মাগফিরাত কামনা করে  বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট নেতা পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মংসুইপ্রু চৌধুরী বলেন, দলীয় ইফতার মাহফিলে জেলা বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলকেই আমন্ত্রণ করা হয়েছে। আজকের ইফতার মাহফিলে সর্বস্তরের জনসাধারনের অংশগ্রহণই প্রমান করেছে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

পৌর মেয়র রফিকুল আলম বলেন, সংসদ সদস্য মহোদয়ের পদ-পদবীসহ ইফতারের দাওয়াত সানুগ্রহ ভাবে গ্রহণ করেছি এবং সম্মিলিত ইফতারকে ধর্মীয় বিধি-বিধানেও উৎসাহিত করা হয়েছে। এটি সামাজিকতার মেলবন্ধন।

শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, ‘‘আমরা সামাজিক, পারিবারিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দলমত নির্বিশেষে সকলকে আমন্ত্রণ জানাই। আমি নিজেও দাওয়াত পেলে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি, পৌর মেয়র রফিকুল আলম আমার দাওয়াতে অংশ নিয়ে একটি ভালো দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন’’। তবে রাজনৈতিক বিরোধ মিটিয়ে আগামী নির্বাচনে এক সাথে কাজ করার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি তিনি।

প্রসঙ্গত: ২০১৫ সালে পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী মো. শানে আলমকে পরাজিত করে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন বর্তমান মেয়র রফিকুল আলম। ওই সময় থেকে বহিস্কার-আবিস্কার, দলীয় অফিসে তালা ঝুলানোর ইতিহাস সৃষ্টি হয়। এর পর থেকে আলাদা-আলাদা কর্মসূচি পালন, পক্ষ-প্রতিপক্ষের ওপর চোরা গুপ্ত হামলা, প্রকাশ্য হামলা, মামলা চলমানে আওয়ামীলীগের একটি অংশে সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পৌর মেয়র রফিকুল আলম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*